০১ Jul ২০২২, শুক্রবার, ০৫:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন


অভিবাসীদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাপী সংহতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের আহবান
নোমান ইবনে সাবিত/বিপি, নিউ ইয়র্ক:
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-০৫-২০২২
অভিবাসীদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাপী সংহতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের আহবান অভিবাসীদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাপী সংহতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশের আহবান


অভিবাসীদের মানবাধিকার ও সুরক্ষার ঘাটতি মেটাতে বিশ্বব্যাপী সংহতি গড়ে তোলার আহ্বান জানালো বাংলাদেশ। স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ মে)  জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরামের (আইএমআরএফ) গোলটেবিল বৈঠক-৪ প্রদত্ত বক্তব্যে এ আহ্বান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। গোলটেবিল বৈঠকটিতে তিনি প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। বৈশ্বিক অভিবাসন কমপ্যাক্ট এর পাঁচটি বিষয় যথাক্রমে: উপাত্ত, তথ্যের বিধান, নাজুকতা হ্রাস, বৈষম্য দূরীকরণ, ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা -এর উপর দৃষ্টিপাত করা হয় বৈঠকটিতে। এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম বাংলা প্রেস।

প্রদত্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে আটকাপড়া অভিবাসীসহ অভিবাসীদের অভিবাসন যাত্রার ঝুঁকি ও নাজুকতা হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার, মানবাধিকার সংস্থা, কনস্যুলেট ও জাতিসংঘ সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বেশি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবী।

স্বাগতিক দেশ ও মাতৃভূমির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভিবাসীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বৈশ্বিক অভিবাসন কম্প্যাক্ট ও এজেন্ডা ২০৩০ এর সমন্বয়মূলক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার উপর জোর দেন এবং এক্ষেত্রে অভিবাসনের সাথে যুক্ত সকল অংশীজন ও জাতিসংঘের অভিবাসন নেটওয়ার্ক এর প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ, জাতিগত বিদ্বেষ, ভুল তথ্য উপস্থাপন, কলঙ্কলেপন, ও অসহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে আরও গভীরভাবে দৃষ্টি দেওয়ার উপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অন্তর্ভূক্তিমূলক মূল্যবোধ ও সহিষ্ণুতার প্রচার এগিয়ে নিতে এবং অভিবাসন ও অভিবাসীদের সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সহযোগিতার পাশাপাশি আরও বেশি বৈশ্বিক সহযোগিতারও আহ্বান জানান তিনি।

ইতোপূর্বে গতকাল, আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) এর মহাপরিচালকের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসনের বিভিন্ন দিক ও সম্ভাব্য সহযোগিতার নানা বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়।

উল্লেখ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ)-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফোরামটিতে যোগদান উপলক্ষ্যে আগত একাধিক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের প্রতিনিধিদলের প্রধানগণের সাথেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। ২০২৩-২৫ মেয়াদে মানবাধিকার কাউন্সিল নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থীতাসহ পারস্পরিক বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয় এসকল বৈঠকে।

আন্তর্জাতিক অভিভাবসন বিষয়ক ‘অগ্রগতি ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে ২০ মে ২০২২ -এ শেষ হবে চার দিনব্যাপী আইএমআরএফ এর সভা।

উল্লেখ্য, আইএমআরএফ এর ‘অগ্রগতি ঘোষণা’ কো-ফ্যাসিলেটেড করার জন্য জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা ও লুক্সেমবার্গ এর স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত অলিভার মেইজ-কে মনোনয়ন প্রদান করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল্লাহ শাহিদ।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত এবারের আইএমআরএফ -এ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যগণের মধ্যে রয়েছেন সংসদ সদস্য রানা মোহাম্মদ সোহাইল ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।