১৪ জুন ২০২৪, শুক্রবার, ০৪:১৮:১৭ অপরাহ্ন


হতাশায় ২৬ তলা থেকে লাফ দিলো অস্ট্রেলীয় টেনিস তারকা!
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৩-০৬-২০২২
হতাশায় ২৬ তলা থেকে লাফ দিলো অস্ট্রেলীয় টেনিস তারকা! হতাশায় ২৬ তলা থেকে লাফ দিলো অস্ট্রেলীয় টেনিস তারকা!


জীবনটা এরকমই, কোনও সময় হিসেব মেলে, আবার কোনওসময় হিসেব মেলে না।

সেদিনও হিসেব মেলেনি, না হলে যিনি মহিলা টেনিসের নামী তারকা ছিলেন, যিনি একনম্বর তারকা মার্টিনা হিঙ্গিসকে হারিয়েছিলেন, সেই জেলেনা ডকিচ আত্মহননের চেষ্টা পর্যন্ত করেছিলেন।

একটা সময় টেনিস থেকে সব পেয়েছিলেন, আবার সবকিছু হারানও। সেই হতাশা, বিষাদে ভরা জীবনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনেও বড় বিপর্যয় ঘটে গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ছেড়ে চলে যান। বাবার দ্বারা অত্যাচারিত হয়েছিলেন।

সোমবার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নিজের জীবনের কথা সবিস্তারে লিখেছেন ডকিচ। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘একটা সময় মনে হয়েছিল, আমার জীবনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গিয়েছে, জীবনের সব আলো নিভে গিয়েছে। কষ্টের ওই বৃত্তে আমি একা। সারাক্ষণ শুধু কাঁদতাম।’’

জেলেনা যে ওই তীব্র কষ্টের মধ্যে হাঁসফাঁস করেছেন, সেই কথাও বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বেশ মনে আছে, ফ্ল্যাটের ২৬ তলা ব্যালকনি থেকে ঝাঁপও মেরেছিলাম, কিন্তু শেষমেশ দুটি তলা নিচে কার্নিশে আটকে গিয়েছিলাম, না হলে হয়তো সেদিনই শেষ হয়ে যেতাম।

কোর্টের বাইরেও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন এই টেনিস তারকা। বাবা এবং কোচ দামির ডকিচের কাছে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচারিত হয়েছেন, সে কথাও নিজের আত্মজীবনী ‘আনব্রেকবল’ বইয়ে জানানও ডকিচ।

মানসিকভাবে শক্তিশালী এই মেয়েটিই গত এপ্রিলে ভেঙে পড়েছিলেন। আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন! নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন ৩৯ বছর বয়সী টেনিস তারকা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কষ্ট ও মানসিক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে’ গত এপ্রিলে তিনি ২৬ তলা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

ক্রোয়েশিয়ার ওসিজেকে জন্ম নেওয়া ডকিচ সাবেক যুগোশ্লোভিয়ার হয়েও খেলেছেন। ২০০২ সালে ডব্লিউটিএ ক্রম তালিকায় সর্বোচ্চ চতুর্থস্থানে উঠে আসা এই তারকা পোস্টে নিজের কান্নাভেজা একটি ছবি পোস্ট করেন। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মানসিকভাবে খুব বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন ডকিচ।

ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ পোস্টে ডকিচ লিখেছেন, ‘‘আত্মহত্যা করতে নিজের ২৬ তলার ব্যালকনি থেকে আমি প্রায় লাফ দিয়েই বসেছিলাম। দিনটা আমি কখনও ভুলব না। সবকিছুই ঝাপসা লাগছিল, অন্ধকার। কিছুই ভাল লাগছিল না, শুধু দুঃখ, হতাশা, শঙ্কা ও কষ্ট। গত ছয় মাস আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। প্রায় সব সময়ই কেঁদেছি। কর্মক্ষেত্রে বাথরুমে গিয়ে কেঁদেছি যেন কেউ দেখতে না পারে।’’

ডকিচ একই পোস্টে লিখেছেন, মানসিক সমস্যা কাটিয়ে উঠে তিনি এখন ভাল হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তবে এই পোস্টেই ডকিচ জানিয়েছেন, সামনে এখনও অনেক পথ বাকি, অনেক কিছু করার বাকি।

২০১৪ সালে পেশাদার টেনিস ছাড়েন ডকিচ। ২০০০ সালে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে ওঠাই গ্র্যান্ড স্লামে তাঁর সর্বোচ্চ সাফল্য। খেলা ছাড়ার পর কোচিং ও ধারাভাষ্য দেওয়ার পাশাপাশি লেখালেখিও করেছেন ডকিচ।