০২ অক্টোবর ২০২২, রবিবার, ১২:০২:৩৩ অপরাহ্ন


বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, আটক ২
অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৮-০৮-২০২২
বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, আটক ২ বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার, আটক ২


বিদেশে ভালো চাকরির পাশাপাশি হজের প্রলোভন। নেয়া হতো মাত্র ৪০ হাজার টাকা। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি হলেও উদ্দেশ্য নারীপাচার। রাজধানীতে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতারের পর এসব কথা জানিয়েছে র‌্যাব। চক্রটির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাচার হওয়া ৪ নারীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ভালো মতো সংসার চালাতে ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করতে গিয়েছিলেন সৌদি আরব। অথচ কোনো মতো জীবন নিয়ে দেশে ফিরে সবটুকু জমি বিক্রি করে শোধ করেছেন বিদেশ যাওয়ার জন্য করা ঋণের ৪০ হাজার টাকা। নূরবানু ফিরে এলেও মো. মাইনুদ্দিন অপেক্ষায় আছেন কবে ফিরতে পারবে তার স্ত্রী শরিফা খাতুন।

এই পাচার চক্রের মূলহোতা আবুল হোসেন ও তার এক নারী সহযোগী আলেয়া বেগমকে রোববার (০৭ আগস্ট) বিকেলে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। তাদের ধরা হয়েছে রাজধানীর পল্টনে সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্সের ৬ষ্ঠ তলায় কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে। উদ্ধার করা হয়েছে ৩১টি পাসপোর্টসহ পাচারকাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও ৩ ভুক্তভোগী নারীকে।

সোমবার (৮ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফট্যানেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল-মোমেন। এরই মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এই চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া ৪ নারীকে।

তিনি বলেন, গত ৭ আগস্ট বিকেলে নয়া পল্টনে কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য মূলহোতা আবুল হোসেন ও তার সহযোগী মোছা. আলেয়া বেগম গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বৈধ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির আড়ালে নারী পাচার ও নির্যাতনের মতো এমন জঘন্য অপকর্ম করে আসছিলেন। তিনি মূলত এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তার এ কাজের অন্যতম সহযোগী আলেয়া বেগম। এ ছাড়া অসংখ্য দালাল রয়েছে।

দালালদের মাধ্যমে তিনি মূলত সমাজের বেকার, অল্পশিক্ষিত, অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারগুলোর বিবাহিত বা তালাকপ্রাপ্ত মেয়ে ও নারীদের মধ্যেপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে অধিক বেতনে চাকরি, বিমানে চড়ার অভিজ্ঞতা, রাজকীয় থাকা-খাওয়ার সুবিধা, স্মার্টফোন দেওয়া এবং সৌদিতে হজ করানোর মতো ধর্মভিত্তিক লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আলেয়া বেগম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, তিনি এ মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম সহযোগী এবং দালাল হিসেবে কাজ করেন। তিনি এর আগে বিজয় নগরের আল ফালাহ এজেন্সির মাধ্যমে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৮/৩৯ জন নারী এবং ২০২১ সাল থেকে আবুল হোসেনের মালিকানাধীন অ্যাপেক্স রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মোট ১২ জন নারীকে বিদেশে পাঠিয়েছেন। তিনি মূলত অন্যান্য দালালসহ গ্রামাঞ্চল থেকে ভুক্তভোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে এজেন্সি অফিসে নিয়ে আসতেন।

এ ছাড়া, আলেয়া বেগম বিদেশে যাওয়া ভুক্তভোগী ও পরিবারের কাছ থেকে সাদা স্ট্যাম্পে টিপসই নিয়ে তাতে পরে নিজেদের সুবিধামতো চুক্তিপত্র টাইপ করে নিতেন।

আবুল হোসেন বিদেশে পাঠানোর কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে তা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের কর্মকর্তা।