১৩ Jul ২০২৪, শনিবার, ১১:৪২:৫৬ পূর্বাহ্ন


প্রেমিকের যে ৪টি স্বভাবের কারণে প্রায়ই সম্পর্ক ভেঙে যায়
ফারহানা জেরিন
  • আপডেট করা হয়েছে : ০৯-০৯-২০২২
প্রেমিকের যে ৪টি স্বভাবের কারণে প্রায়ই সম্পর্ক ভেঙে যায় ফাইল ফটো


যেকোনো সম্পর্কের শুরুটা খুব সুন্দর হয়ে থাকে। প্রেমের ক্ষেত্রেও তাই। একজন আরেকজনের প্রতি ভালোলাগা অনুভর করার মাধ্যমেই প্রেমে পড়েন। তারপর ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে আসেন। দিন যত যেতে থাকে ভালোবাসাও তত গভীর হতে থাকে। একসময় পরস্পরের প্রতি আস্থা কিংবা ভরসার জায়গা তৈরি হলে দুজন মানুষ একসঙ্গে পথচলার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এক্ষেত্রে তাদের পুরো পথ শুরুর মতো সুন্দর ও মসৃণ নাও থাকতে পারে। এর বড় কারণ হলো, একসঙ্গে চলতে গিয়েই মানুষের আসল স্বভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। বেশিরভাগ নারীই তার পুরুষ সঙ্গীর খারাপ বা নেতিবাচক স্বভাবগুলোকে গুরুত্ব দিতে চান না। এতে একটি সম্পর্ক তার আসল সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে।

হয়তো পুরুষটি মাঝেমাঝেই গায়ে হাত তোলে বা অপমান করার চেষ্টা করে, তবে আপনি সেটি বেমালুম ভুলে যান। আপনি সমস্যাকে ছোট করে দেখলেও সেটি কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। যার প্রভাব পড়ে আপনার পরবর্তী জীবনে। বিশেষজ্ঞদের মত হলো, এসব ক্ষেত্রে চুপ থাকা বা এড়িয়ে চলা যাবে না। বরং যত দ্রুত সম্ভব সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

সম্পর্কে যেকোনো একজনের বা দুইজনেরই যদি আত্মসম্মানবোধ না থাকে, তবে সেটি কোনো সম্পর্কই নয়। তাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে তার সৌন্দর্যটুকুও ধরে রাখা জরুরি। কিছু স্বভাব থাকে যা কোনোদিনও বদলায় না, এমন বৈশিষ্ট্য যদি আপনার প্রেমিক বা স্বামীর মধ্যেও থাকে তবে সময় এসেছে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কারণ সেসব স্বভাবের কারণে ভাঙতে পারে সম্পর্ক। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সে স্বভাবগুলো সম্পর্কে-

সুযোগ পেলেই আপনাকে ছোট করে: এমন অনেক মানুষ আশেপাশেই দেখতে পাবেন, যারা সুযোগ পেলেই সঙ্গীকে ছোট করে কথা বলে। মানুষের সামনে ছোট করতে পারলে, আপনাকে অপমান করে কথা বলতে পারলেই যেন তার আনন্দ! সঙ্গীর মাঝে এমন স্বভাব দেখতে পেলে সতর্ক হোন। কারণ তার এই স্বভাব আপনাকে ভেতর থেকে ভেঙেচুরে দেবে। আপনার আত্মবিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। এমন মানুষের সঙ্গে কে আর কতদিন মানিয়ে চলতে পারে!

আপনার মতামতকে একদমই গুরুত্ব না দিলে: কিছু প্রেমিক বা স্বামী থাকেন, যাদের বৈশিষ্ট্য হলো স্বৈরাচারী ধরনের। সম্পর্কে তাদের কথাই শেষ কথা। যেকোনো বিষয়ে তারা একাই মতামত দেন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আপনার সঙ্গী কি আপনার মতামতকে গুরুত্ব দেন? নাকি তিনিও স্বৈরাচারীদের দলে? প্রথম দিকে এই বিষয়কে স্বাভাবিক মনে হতে পারে, এরপর একটা সময় তার এই স্বভাব আপনার কাছে অসহ্য মনে হতে থাকবে। এমন একজন মানুষের সঙ্গে কতদিন টিকে থাকতে চান, সিদ্ধান্ত আপনার।

আপনাকে হিংসা করলে: সঙ্গী মানে পরস্পরের সুখে সুখী হতে জানা। কারণ তখন দুজন মিলেই এক। যদি আপনার সব সাফল্যে তিনি কেবল হিংসাই করেন, তবে সতর্ক হোন। ছোটখাটো বিষয়ে চিৎকার করলে, এমনকী গায়ে হাত তুললে সেই সম্পর্ক ভাঙবেই। কারণ এমন সম্পর্কে শেষটা ভয়ঙ্কর না হয়ে উপায় নেই!

যদি আপনার লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা না থাকে: সঙ্গী মানে শুধু সুখের ভাগীদার নয়, দুঃখেও পাশে থাকা। আপনার স্বপ্ন, আপনার প্রত্যাশা, আকাঙ্ক্ষা কোনোকিছুই যদি তাকে স্পর্শ না করে তবে দুঃখিত, সেটি আসলে কোনো সম্পর্কই নয়। যিনি আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে মোটেই ভাবছেন না, তার সঙ্গে আপনি আর কতদূর যেতে পারবেন? সঙ্গী মানে পরস্পরের পাশে থাকা। তিনি আপনার পাশে না থেকেও কীভাবে সঙ্গী হতে পারেন? আপনার দুঃসময়ে তার ভরসার হাত যদি কাঁধেই না পেলেন, তাকে বয়ে বেড়ানোর তো কোনো অর্থ নেই!